BANGLADESH NEWS

WORLD TOP NEWS

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার জন্য আপনি নিজেই আবেদন করতে পারেন।

 

কারো সাহায্য ছাড়াই নিজে কীভাবে পাসপোর্ট করবেন.. বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার জন্য আপনি নিজেই আবেদন করতে পারেন। ই-পাসপোর্ট (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) করতে হলে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে, যা সহজভাবে সম্পন্ন করা যায়। নিচে ধাপগুলো দেওয়া হলো:


ধাপ ১: আবেদন ফর্ম পূরণ

************************

১.১. ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ-

প্রথমেই আপনাকে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে।


১.২. রেজিস্ট্রেশন-

যদি আপনি নতুন ব্যবহারকারী হন, তাহলে "Create Account" বা "নতুন একাউন্ট তৈরি করুন" অপশনে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন করবেন। রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনাকে নিচের তথ্য দিতে হবে:

- নাম

- ইমেইল আইডি

- মোবাইল নম্বর

- পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে

এরপর আপনার মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে, যা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে।


১.৩. ফর্ম পূরণ-

লগইন করার পর আপনাকে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই ফর্মে নিচের তথ্যগুলো চাওয়া হয়:

- ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা)

- জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর (NID)

- পেশাগত তথ্য (যদি প্রযোজ্য হয়)

- পাসপোর্টের ধরন নির্বাচন (৫ বছর বা ১০ বছরের মেয়াদ)


১.৪. ফর্ম সাবমিশন ও প্রিন্ট-

আপনি যখন অনলাইনে ফর্ম পূরণ করবেন, তখন আপনাকে তা যাচাই করতে হবে। যাচাই করার পর ফর্মটি সাবমিট করে তার প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করুন। এটি পরবর্তীতে প্রয়োজন হবে।


ধাপ ২: পাসপোর্ট ফি জমা করা

***************************

২.১. ফি নির্ধারণ-

আপনার ই-পাসপোর্টের জন্য ফি নির্ধারিত থাকে। এর উপর নির্ভর করে আপনার জমা দিতে হবে:

**৫ বছরের মেয়াদ (৪৮ পৃষ্ঠা): সাধারণ ৩,৪৫০ টাকা (দ্রুত ফি ৬,৯০০ টাকা)

**১০ বছরের মেয়াদ (৬৪ পৃষ্ঠা): সাধারণ ৫,৭৫০ টাকা (দ্রুত ফি ৯,২০০ টাকা)


২.২. ফি জমা দেওয়ার পদ্ধতি-

আপনি নিচের যেকোনো মাধ্যম দিয়ে পাসপোর্ট ফি জমা দিতে পারবেন:

**ব্যাংক ডিপোজিট: নির্দিষ্ট ব্যাংকে গিয়ে সরাসরি জমা দিতে পারেন।

**অনলাইন পেমেন্ট: ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন বিকাশ, নগদ), অথবা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট করতে পারেন।


ধাপ ৩: বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান

****************************

৩.১. নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিতি-

আপনার ফর্ম এবং ফি জমা দেওয়ার পর আপনাকে একটি তারিখ দেওয়া হবে। সেই তারিখে নির্দিষ্ট পাসপোর্ট অফিস বা ই-পাসপোর্ট সেন্টারে উপস্থিত হতে হবে।


৩.২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-

বায়োমেট্রিক তথ্যের দিন আপনার সাথে নিচের কাগজপত্রগুলো নিয়ে যাবেন:

**প্রিন্ট করা আবেদন ফর্ম

**জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম সনদ

**আগের পাসপোর্ট (যদি থাকে)

**পাসপোর্ট ফি জমার রশিদ


৩.৩. বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া-

সেন্টারে গিয়ে আপনাকে নিচের কাজগুলো করতে হবে:

**আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ)

**আপনার ছবি তোলা হবে

**স্বাক্ষর প্রদান


ধাপ ৪: পাসপোর্ট সংগ্রহ

*********************

৪.১. পাসপোর্ট প্রস্তুতির সময়

বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দেওয়ার পর পাসপোর্ট প্রস্তুতির জন্য কিছু সময় নেয়। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস সময় লাগতে পারে, যদি দ্রুত সেবা না নেন।


৪.২. এসএমএস নোটিফিকেশন-

পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে আপনাকে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। এছাড়াও ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে লগইন করেও আপনার পাসপোর্টের অবস্থা দেখতে পারবেন।


৪.৩. পাসপোর্ট সংগ্রহ-

এসএমএস পাওয়ার পর নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রাপ্তি স্লিপ দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।


পাসপোর্ট প্রক্রিয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

************************************

**সব সময় ফর্ম পূরণ করার সময় সঠিক তথ্য প্রদান করবেন।

**ফি জমা দেওয়ার পর রশিদটি সাবধানে রাখুন।

**ছবি তোলার দিন পরিষ্কার পোশাক পরিধান করবেন এবং মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে (ধূসর ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবি তোলা হয়)।


আপনি পুরো প্রক্রিয়াটি নিজে সম্পন্ন করতে পারেন, কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই।

No comments:

TOP NEWS

Powered by Blogger.